সাধারণ সম্পাদকের বাণী
সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, প্রিয় কৃষক, শ্রমজীবী, মেহনতি মানুষ এবং শ্রদ্ধেয় এলাকাবাসী --
একটি সমবায় প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি তার ভবন, সম্পদ কিংবা কাগজপত্রে নয়; তার প্রকৃত শক্তি হলো মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস, সহযোগিতা এবং একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতায়। সেই বিশ্বাস ও ঐক্যের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই রামপুর সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি লিঃ-এর পথচলা।
আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা কঠোর পরিশ্রম করেন, কিন্তু প্রয়োজনের সময় সামান্য সহযোগিতার অভাবে পিছিয়ে পড়েন। কোনো কৃষক উৎপাদনের উপকরণের সংকটে পড়েন, কোনো পরিবার অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়ে, কোনো তরুণ কাজের সুযোগের অভাবে হতাশ হয়ে পড়েন। এসব বাস্তবতা আমাদের চোখের সামনে। তাই সমবায়ের দায়িত্ব শুধু নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; সমবায়কে মানুষের প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানোর একটি কার্যকর মাধ্যম হতে হবে।
সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি মনে করি, আমাদের প্রথম দায়িত্ব হলো সদস্যদের কথা শোনা এবং তাদের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া। একজন সদস্য সমিতির কাছে এসে যেন অবহেলার অনুভূতি নিয়ে ফিরে না যান। তার সমস্যা হয়তো আমাদের কাছে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু তার পরিবারের কাছে সেটিই হয়তো সবচেয়ে বড় সমস্যা। তাই প্রতিটি সদস্যের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা, প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা দেওয়া এবং সম্ভব হলে সমিতির মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা আমাদের দায়িত্ব।
বিশেষ করে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে আমি সমিতির ভবিষ্যৎ শক্তি হিসেবে দেখি। তাদের মেধা, শ্রম ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানকে কৃষি ও অন্যান্য উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে একদিকে যেমন তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে সমিতির কার্যক্রমও আরও আধুনিক ও গতিশীল হবে।
আমাদের নারী সদস্য ও এলাকার মা-বোনদের অংশগ্রহণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দক্ষতা, শ্রম ও উদ্যোগকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করা গেলে অনেক পরিবার আরও স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে। একটি পরিবারের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি মানেই একটি পরিবারের ভবিষ্যৎকে আরও নিরাপদ করা।
আমি আরও বিশ্বাস করি, একটি সমবায়ের সাফল্যের অন্যতম শর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। সমিতির প্রতিটি সিদ্ধান্ত, সম্পদ ও কার্যক্রম সদস্যদের স্বার্থকে সামনে রেখে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। সদস্যরা জানবেন, সমিতি কী করছে, কেন করছে এবং এর সুফল কীভাবে সদস্যদের কাছে পৌঁছাবে। আপনাদের প্রশ্ন, পরামর্শ ও গঠনমূলক সমালোচনাকে তাই আমি সমিতির উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করি।
আমরা হয়তো একদিনে সব সমস্যার সমাধান করতে পারব না। কিন্তু একটি একটি করে সমস্যা চিহ্নিত করে, একটি একটি করে উদ্যোগ নিয়ে এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যেতে পারি। আমার কাছে এটাই বাস্তবসম্মত সমবায় চেতনা।
আমি চাই, রামপুর সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি লিঃ এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক, যেখানে একজন সাধারণ সদস্যও গর্ব করে বলতে পারেন,
“এই সমিতি আমার,
আমার পরিবারের জন্য,
আমার ভবিষ্যতের জন্য।”
সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি আপনাদের সঙ্গে থেকে কাজ করতে চাই, আপনাদের কথা শুনতে চাই এবং সমিতির উন্নয়নে আপনাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাই। আমাদের পথচলায় ভুল-ত্রুটি হতে পারে, সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে; কিন্তু মানুষের কল্যাণে কাজ করার আন্তরিকতায় যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সেটিই আমার প্রত্যাশা।
আসুন, সমবায়কে শুধু একটি সংগঠন হিসেবে নয়, পারস্পরিক সহযোগিতার একটি সামাজিক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলি।
আমাদের সম্মিলিত শ্রম, সততা, ঐক্য ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে রামপুরের কৃষি, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করি।
আপনাদের পরামর্শ, সহযোগিতা ও দোয়া আমাদের পথচলার প্রেরণা হয়ে থাকুক।
সকলের কল্যাণ কামনায়।
মোহাম্মদ মুফিজুর রহমান
সাধারণ সম্পাদক
রামপুর সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি লিঃ
চকরিয়া, কক্সবাজার